Breaking News

বিয়ে করলেই মিলবে ২৫ লাখ টাকা, প্রেম করলে ৪২ হাজার

আধুনিকায়নের পথে হাঁটছে পুরো পৃথিবী। তবে এ আধুনিকায়নের প্রভাব দেখা দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। সম্প্রতি পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে কমতে শুরু করেছে জনসংখ্যা। দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় শীর্ষ স্থানীয় আবস্থানে রয়েছে।
দেশটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে না করার এবং সন্তানের জন্ম না দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটলেও নবজাতকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে দেশটিতে। ফলে দেশটির অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত বৈপরীত্যের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাটানো, তীব্র পেশাদার চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই দেশের জন্মহার তলানিতে নেমেছে। এ জন্মহার হ্রাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এক দিন পৃথিবীর মানচিত্র থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার অস্তিত্বই মুছে যাবে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে ২০২০ সাল থেকে প্রথম বারের মতো জনসংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার এক-তৃতীয়াংশ নারী বিয়েই করতে চান না। এদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ নারীরা গৃহকর্মের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে। সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব তরুণ-তরুণীদের বিয়ে না করার অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত হয়েছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট প্রজননের হার দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৭২। যা ২০২২ সালে ছিল ০ দশমিক ৮১। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জন্মহার কমেছে ৮ শতাংশ।
৭০ দশকের শুরুতে দেশটিতে নারীদের গড়ে চারটি সন্তান থাকত। ১৯৬০ সালে এই হার ছিল ৬। সেই সময় দেশের অর্থনীতির হাল ধরতে সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা শুরু করে। ১৯৮২ সাল নাগাদ অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রজননহার ২ দশমিক ৪ এ স্থির হয়ে যায়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গড় আয়ুর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে, সন্তানধারণে অনিচ্ছার কারণে ধীরে ধীরে কমে আসছে পরিবারের সংখ্যাও।
এভাবে চলতে থাকলে নষ্ট হবে দেশে সামাজিক কাঠামো, ভেঙে পড়বে অর্থনীতি। তাই বিয়ে ও সন্তানধারণের প্রতি যুব সমাজকে আকৃষ্ট করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এ প্রকল্পগুলির মাধ্যমে যুবসমাজকে সম্পর্ক তৈরি, বিয়ে এবং সন্তানধারণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশটির কোনও পুরুষ বা নারী যদি বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে ডেটে যেতে চান, তাহলে সরকার তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ডেটে যাওয়ার জন্য প্রেমিক-প্রেমিকাকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেবে দেশটির সরকার। সরকারি সহায়তা শুধুমাত্র প্রেম বা ডেটে যাওয়ার জন্য থেমে নেই। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন যদি তাদের মা-বাবারা দেখা করেন, তবে সেই খরচও আলাদাভাবে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরীয় কোনও যুগল যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাহলেও মোটা টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে রাজি সরকার। বিবাহে ইচ্ছুক প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ের জন্য সে দেশের সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়াও সন্তানধারণের জন্যও দম্পতিদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়। সরকারের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করায়, কোনও দম্পতি যেন সন্তান ধারণ থেকে বিরত না থাকেন, সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত।

About luxurycarairfresheners

Check Also

লজ্জা স্থা’নের লোম কা’টার সঠিক নিয়ম অনেকেই জানেন না, জেনে নিন

লজ্জা স্থা’নের লোম কা’টার সঠিক নিয়ম অনেকেই জানেন না, জেনে নিনজিজ্ঞাসা–১১০২: ইসলামে লজ্জাস্থানের চুল কাটার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *